February 21, 2026, 4:58 am

চরম বৈষম্য আর বঞ্চনার শিকার সার্ভে ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ারগণ

Hazi Manjurul Ahasan : 199 Time View
Update : Monday, May 26, 2025

চরম বৈষম্য আর বঞ্চনার শিকার সার্ভে ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ারগণ। কারিগরি শিক্ষা অধিদপ্তরের ৩৪ টি ডিপ্লোমা টেকনোলজির মধ্যে অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ একটা টেকনোলজি ডিপ্লোমা ইন ইঞ্জিনিয়ারিং (সার্ভেয়িং)। যা অন্যান্য ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ারিং এর ন্যায় ৪ বছর মেয়াদী ( পূর্বে ৩ বছর মেয়াদী প্রকৌশল ডিপ্লোমা। সার্ভে ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ারগণ সরকারের বিভিন্ন মন্ত্রণালয়/দপ্তর / অধিদপ্তরে/ সংস্থায় সার্ভেয়ার পদে কর্মরত রয়েছেন। মাঠ প্রশাসনে খোঁজ নিয়ে জানা যায় সরকারের সকল উন্নয়ন মূলক কাজের প্রাথমিক ধাপে যেমন ভূমি অধিগ্রহণ, সরকারি খাস জমি উদ্ধার ও ব্যবস্থাপনা,খাস জমি চিহ্নিত করে অবৈধ দখলদারি থেকে মুক্ত করা,সেগুলো সরকারের নিয়ন্ত্রণে রাখা,ভূমির ডিজিটাল নকশা প্রনয়ণ, খতিয়ান প্রস্তুত, নামজারী সম্পাদন ও সরকারের রাজস্ব আদায়ে সরাসরি ভূমিকা পালন করা। এছাড়া সড়ক উন্নয়নের ভূমি অধিগ্রহণ, সড়ক নির্মাণের তদারকি, পানি উন্নয়ন বোর্ড এর নিয়ন্ত্রণে সকল খাল খননের তদারকি ও সীমানা চিহ্নিত করাসহ সকল উন্নয়নের প্রাথমিক ধাপে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন। কারিগরি অধিদপ্তরের আওতায় যদিগুলো ডিপ্লোমা টেকনোলজি আছে তাঁরা সকলেই ১৯৯৪ সালের সম/বিধি -১৬৪ নং রাষ্ট্রপতির আদেশে ২য় শ্রেণি বর্তমানে ১০ম গ্রেডে উপ-সহকারী প্রকৌশলী পদে নিয়োগ প্রাপ্ত হয়। সেখানে অর্থ বিভাগের সুস্পষ্ট সম্মতি রয়েছে এবং সকল দপ্তরকে নির্দেশনা প্রদান করেছেন। কিন্তু বিভিন্ন দপ্তরে কর্মরত সার্ভে ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ারগণকে সম শিক্ষাগত যোগ্যতা নিয়ে প্রতিযোগিতার মাধ্যমে চাকুরিতে আসলেও তাদের ক্ষেত্রে চরম বৈষম্য করা হচ্ছে। এ বিষয়ে খোঁজ খবর নিয়ে জানা যায় সরকারের বিভিন্ন দপ্তরে কর্মরত সার্ভে ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ার / সার্ভেয়ারগন কোথাও কোথাও ১৪,১৫,১৬ তম গ্রেডে অত্যন্ত বৈষম্য ও বঞ্চনা নিয়ে চাকুরী করছেন। এতে করে ঐ সকল দপ্তরের অন্য ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ারগনের সাথে তাঁদের বৈষম্য চরম পর্যায়ে পৌছেছে। এ সকল মেধাবী ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ারগণ কর্মস্থলে সঠিক মুল্যায়ন না পেয়ে চরম মানবতার জীবন যাপন ও কর্ম স্পৃহা হারিয়ে ফেলছেন। খোঁজ নিয়ে আরো জানা যায় শিক্ষা মন্ত্রণালয় হতে বিগত ২০০৫ সালে ১৭৮(১৭) স্মারকে অন্যান্য ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ারদের ন্যায় উপ-সহকারী প্রকৌশলী ও বেতন স্কেল ২য় শ্রেণীতে উন্নত করতে অনুরোধ করেন। এছাড়া ২০১৩ ও ২০১৪ সালে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব এর সভাপতিত্বে অর্থ মন্ত্রণালয়ের, ভূমি মন্ত্রণালয়ের, জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের, মন্ত্রী পরিষদের সদস্যদের সমন্বয়ে গঠিত কমিটি কল্যান শাখা হতে পূনরায় তাঁদের ২য় শ্রেণিতে উন্নীত করার সুপারিশ করে অর্থ সচিবকে পত্র প্রেরণ করলে ও তৎকালীন অর্থ সচিবের অবৈধ আবদার মিটাতে না পারায় বাস্তবায়নে গড়িমসি করে। এরপর ভূমি মন্ত্রণালয় হতে ২০১৮ ও ২০১৯ সালে সার্ভে ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ার / সার্ভেয়ার ও সমমান পদের বেতন স্কেল ২য় শ্রেণি (১০ম গ্রেড) বাস্তবায়নে সুপারিশ করলেও কিছু অর্থলোভী অফিসারকে সুবিধা দিতে না পারায় সে যাত্রায় ও বাস্তবায়ন না করে তাঁদের সাথে চরম বৈষম্য ও পক্ষপাতদুষ্ট আচারণ করেন। এ বিষয়ে বাংলাদেশ ম্যানেজমেন্ট সার্ভেয়ার’স এসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক ও বৈষম্য বিরোধী সার্ভে ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ার্স ছাত্র -পেশাজীবি অধিকার বাস্তবায়ন পরিষদের সদস্য সচিব মিরাজ হোসেন জানান আমরা দীর্ঘদিন এ বৈষম্যর বিরুদ্ধে সরকারের বিভিন্ন দপ্তরে আমাদের ন্যায়সংগত দাবীর বিষয়টি নিয়ে আলোচনা ও আবেদন করে আসছি। ইতিপূর্বে জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে মানববন্ধন করে আমাদের দাবি গুলো তুলে ধরছি কিন্তু অত্যন্ত কষ্টের কথা তাঁরা আমাদের ন্যায্য দাবী বাস্তবায়নে কোন ভূমিকা নেয়নি।
আমাদের দাবী যদি কোন অযৌক্তিক হয় আমরা কখনোই আমাদের দাবী নিয়ে কথা বলবো না। এটা হতে পারেনা একই কারিকুলামে ডিগ্রী অর্জন করে কেউ ২য় শ্রেণির কর্মকর্তা আর কেউ তৃতীয় শ্রেণিতে চাকুরী করবে এই বৈষম্যর জন্য তো আমাদের ছাত্র জনতা নতুনভাবে জীবন দিয়ে স্বাধীনতা আনেননি। আমরা সরকারের সকল মহল ও ছাত্র সমন্বয়কদের সহযোগিতা কামনা করছি। বিনীত নিবেদক
পক্ষে, একজন ভুক্তভোগী সার্ভেয়ার

Facebook Comments Box


More News Of This Category

Facebook Like Page

এক ক্লিকে বিভাগের খবর