July 22, 2026, 9:32 am

আগামী অক্টোবরে জার্মানির ফ্রাংকফোর্টে শুরু হচ্ছে বিশ্ব বই মেলা ২০২৩

Hazi Manjurul Ahasan : 343 Time View
Update : Tuesday, August 8, 2023

আগামী অক্টোবরে জার্মানির ফ্রাংকফোর্টে শুরু হচ্ছে বিশ্ব বই মেলা-২০২৩। শান্তি পুরস্কার পাচ্ছে সালমান রুশদি। মুদ্রনযন্ত্রের আবিষ্কারক ইয়োহানেস (জোহানেস) গুটেনবার্গের জন্মস্থান জার্মানির মাইনস শহরের পাশেই বানিজ্যিক নগরী ফ্রাংকফোর্টে সোনালী শরতে শুরু হচ্ছে পৃথিবীর সবচেয়ে বৃহৎ বই মেলা ২০২৩ইং। যা জার্মান পুস্তক প্রকাশক ও বিক্রেতা সমিতির আয়োজনের ৭৫ তম মেলা। মেলা ১৮ অক্টোবর শুরু হয়ে চলবে ২২ অক্টোবর পর্যন্ত। সারা পৃথিবীর কবি,লেখক,সাহিত্যিক,সাংবাদিক, রাজনৈতিক,প্রকাশক ও বিক্রেতাসহ লাখো বই পাগল মানুষের মিলন মেলা হবে মেলা প্রাঙ্গণে। জার্মান সংস্কৃতি মন্ত্রী মিসেস ক্লাউডিয়া রোথ-এই বইমেলা উদ্ভোধন করার কথা রয়েছে। মেলার নিয়ম অনুযায়ী প্রতি বছর একটি দেশকে বিশেষ অতিথি হিসেবে আমন্ত্রন জানানো হয়। আর এবারের সেই অতিথি দেশ ভলকানের স্লোভানিয়া। উদ্ভোধনীতে থাকবেন দেশটির সরকার প্রধান বা প্রেসিডেন্ট মিসেস সুজানা কাপুতোভা। বাংলাদেশের সংস্কৃতি প্রতিমন্ত্রী কেএম খালিদও বাংলাদেশের প্রতিনিধি দলের নেতৃত্ব দিবেন।

যুদ্ধ বিধ্বস্থ ইউক্রেনকে আয়োজকদের পক্ষ থেকে ৯ মিলিয়ন ইউরো সাহায্য দেয়া হবে ইউক্রেনের কালচার মিনিষ্টারীকে। পৃথিবীর শত দেশের হাজারও প্রকাশকদের সাথে আসবে বাংলাদেশের সংস্কৃতি মন্ত্রনালয়ের একটি স্টল ও ব্যাক্তিগতভাবে বীর মুক্তিযোদ্ধা বাংলাদেশের প্রকাশনা শিল্পের পূরোধা ওসমান গনির আগামী প্রকাশনা সহ আরো প্রকাশকরা আসবেন বলে ধারনা করা হচ্ছে। মজার ব্যাপার হচ্ছে,এই মেলায় কোন বই বিক্রি হয় না ,হয় শুধু বানিজ্যিক,সভা,সেমিনার ও প্রদর্শনী। মেলার শেষ দিনে পুরানো বই বাইরে বিক্রি হয়। তাই এখানে সংস্কৃতি মন্ত্রনালয় ছাড়াও আসা উচিত প্রকাশকদের। তারা পেতে পারে বিভিন্ন দেশের অনেক নামী দামী প্রকাশকদের সাব কন্ট্রাক্ট, যেহেতু বাংলাদেশে শ্রমের মূল্য কম। বাংলাদেশের প্রকাশনা শিল্প হতে পারে বৈদেশিক মুদ্রা আয়ের নতুন পথ। বাংলাবাজার কিংবা ২১শে বই মেলায় সীমাবদ্ধ না থেকে আসা উচিত এই বই মেলায়। অন্যদিকে মেলার আয়োজকরা প্রতি বছর তৃতীয় বিশ্বের একটি দেশের নতুন ও মহিলা প্রকাশকদের মেলায় আসা যাওয়ার খরচ সহ সব বহন করে। নতুন প্রকাশকরা এই সুযোগটিও নিতে পারেন। যারা অনুবাদ করতে চান তাদের জন্যও রয়েছে মেলার আয়োজকদের পক্ষ থেকে আর্থিক সুবিধাসহ পরামর্শ। বিগত বছর গুলোতে এখানে বাংলাদেশ সরকার প্রকাশকদের না পাঠিয়ে,পাঠিয়েছেন সচিব,গ্রন্থকেন্দ্রের কর্মকর্তাদের,তদারকি করেছেন বার্লিনস্থ বাংলাদেশ দূতাবাস। তাদের ভ্রমন ছিলো — পিকনিক পিকনিক ভাবের। না তারা কোন সভাসেমিনারে অংশ নিয়েছেন!না বই ছাপানোর কোন চুক্তি করেছেন। ব্যাক্তিগত ভাবে এসেছিলেন দুই একজন প্রকাশক। তার মধ্যে শওকত হোসেন লিটু যিনি পারিজাত প্রকাশনীর স্বত্বাধীকারী এসেছিলেন একজন জার্মান প্রবাসীর “জগাখিচুঁরী” নামে একটি বই নিয়েে।

 

আর এই বইর প্রকাশনা থেকে বৈদেশিক মুদ্রা আয় করতে চাইলে এখানে প্রকাশকদের আসতে হবে। বাংলাদেশ স্টলে শুধু এক পেশার বই না রেখে সব ধরনের বই রাখা উচিত।তারা বই কেনে,বই পড়ে,বই উপহার দেয়। এরা দোকানে গিয়ে খাবার কেনে পেটের জন্য, ফুল কেনে প্রিয়জনের জন্য, বই কেনে নিজের জন্য। ছোট বাচ্চাকে ঘুম পাড়ায় বই পড়ে শুনিয়ে। রাস্তার মোড়ে মোড়ে আলমারী করে বই রেখে দেয়,যে পড়তে চায়, নিয়ে পড়ে রেখে যায়। শরতে এখানে না শীত না গরম থাকে , সোনালী রোদে আকাশ ভরে থাকে, লাখো অচেনা মুখের আনাগোনা চিরচেনা ৭০ টি ভাষাভাষি মানুষের মাল্টিকালচার ফ্রাঙ্কফুর্ট শহরটিকে লাগে অচেনা। গুগলে গিয়ে যে কেউ আবেদন করতে পারেন,এই মেলায় আসার জন্য। এবারের প্রবেশ মূল্য — একদিনের জন্য ২৫/২০ ইউরো,চার দিনের জন্য –১৫৬ ইউরো -বাচ্চা —১৫ ইউরো – ব্যাবসায়ী ৮৪ ইউরো,পরিবার -৫৩ ইউরো। অনলাইনে আগেই টিকেট কেটে নিতে পারেন। আপনি যদি কোন ব্যাতিক্রমধর্মী সাজে আসেন,তাহলে আপনি ফ্রি ঢুকতে পারবেন। মেলার ওয়েভসাইড থেকে জানা এবারের মেলায় আসবেন বিতর্কিত ইরানী লেখক সালমান রুশদী। মেলার নিয়ম অনুযায়ী একজন লেখককে শান্তি পুরষ্কার দেয়া হয় শহরের পল গীর্জায় শেষ দিনে। এবার এই পুরস্কার পাচ্ছেন সালমান রুশদী॥

Facebook Comments Box


More News Of This Category

Facebook Like Page

এক ক্লিকে বিভাগের খবর