বিবস্ত্র অবস্থায় পৃথিবীতে জন্ম গ্রহণ করেছি। নিজের শরীরটা নিজে নিজে অবগাহন করতে পারিনি। নিজের প্রয়োজনের কথাগুলো বলে বুঝানোর ক্ষমতা ছিল না। অপরের সাহায্যে দীর্ঘদিন বেঁচে থাকতে হয়েছে। শূন্য থেকে ইচ্ছাশক্তিকে কাজে লাগিয়ে নিজের অস্তিত্বের বিকাশ ঘটাতে সক্ষম হয়েছি। মানুষ যার যার ইচ্ছাশক্তির দ্বারা তাঁর জীবন নির্বাচন করে। সৃষ্টিকর্তা আমাদের ইচ্ছার স্বাধীনতা দান করেছেন। সার্বিক কোনো নীতিমালা নেই, তবে সামাজিক নিয়মকানুনই নৈতিক বলে বিবেচিত। আমাকে সৎ ও সরলপথে চলা আমার নৈতিকতার বহিঃপ্রকাশ। সকল পবিত্র ধর্মগ্রন্থ নৈতিকতায় পরিপূর্ণ। আমরা যদি আমাদের যার যার ধর্ম অনুসরণ করে চলি, তবে আমাদের নৈতিকতার কোন অবক্ষয়ই সমাজে পরিলক্ষিত হতো না। মানুষের দ্বারা যেখানে একটা সুষ্ঠু সামাজিক কাঠামো তৈরি হবে, আর সেখানে আমরা প্রতারণা, মিথ্যা, ছলচাতুরি ও একে অপরকে নানা কৌশলে ফাঁদে ফেলে দিচ্ছি। কতটাই নিষ্ঠুর আচরণ আমরা একে অপরের সাথে করে যাচ্ছি। অপরের কষ্টে উপার্জিত অর্থ, বাড়িঘর প্রতারণা করে নিজের করে নিচ্ছি। আমরা ভুলে যাই, আবারও আমাদের অবগাহন অপরে করাবে, অপরের কাঁধে ভর করে শেষ ঠিকানায় পৌঁছাতে হবে। তবে শুধু বিবস্ত্র থেকে মুক্তি পেয়ে একখানা কাপড়ে আচ্ছাদিত করে দিবে। প্রতারণা, মিথ্যা, ছলচাতুরি তথা নানাবিধ কৌশল অবলম্বন করে যা আত্মসাৎ করেছিলাম, সবই কিন্তু পড়ে থাকবে। তাই, মানুষ তথা অন্যান্য প্রাণীর প্রতি সদয় ও নৈতিক আচরণ করতে প্রতিজ্ঞাবদ্ধ হই। মাটির তৈরি, আবার মাটিতেই বিলীন হয়ে যাবো। অহংকার বর্জন করি। প্রভুত্বের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করি।